Loading...
The Financial Express

বছরের পর বছর রপ্তানিতে পিছিয়ে দেশের হস্তশিল্প

| Updated: March 03, 2021 16:45:04


ছবিঃ সংগৃহীত ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশের হস্তশিল্প খাতের অগ্রগতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, নীতিমালাগত ত্রুটির কারণে দেশের হস্তশিল্প ক্ষেত্র একটি লাভজনক খাতে পরিণত হতে পারেনি।

হস্তশিল্প বাণিজ্যের নেতৃত্ব প্রদানকারী শীর্ষস্থানীয় নেতারা দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসেকে জানিয়েছেন, বহিঃর্বিশ্বে হস্তশিল্প পণ্যের কদর বাড়লেও সে চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সময়ের সাথে দেশের রপ্তানি পণ্যের পরিমাণ বাড়েনি।

এর কারণ হিসেবে তারা বলেন, পর্যাপ্ত কাঁচামাল, প্রয়োজনীয় সংখ্যক দক্ষ কারিগর, সময়ের সাথে নকশাগুলোতে নতুনত্ব আনা, এই খাত আরো উন্নতকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন রকম গবেষণামূলক কাজ, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাবের মতো আরো অনেক বিষয় রয়েছে, যার দরুন আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অস্তিত্ব ধরে রাখতে পারছে না দেশের হস্তশিল্প বাণিজ্য। 

‘বাংলাক্রাফট’ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ হস্তশিল্প উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি গোলাম আহসান বলেন, কোভিড-১৯ এর প্রকোপের কারণে তারা বর্তমানে বেশ কঠিন সময় পার করছেন।

তিনি বলেন, হস্তশিল্প পণ্য প্রস্তুতের খরচ বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ, কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের বাজার দর আগের মতোই রয়েছে।

এক প্রশ্নোত্তরে বাংলাক্রাফটের সভাপতি বলেন, আরো অধিক পণ্য সরবরাহের জন্য ক্রেতারা ব্যবসায়ীদের তাগাদা দিচ্ছেন।

শুধু তা-ই নয়, কাঁচামালের মূল্য এবং শ্রমিকদের পারিশ্রমিকও বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, গত বছরের বন্যার কারণে পাট ও হোগলা পাতার মতো অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক কাঁচামালের ফলনেও ঘাটতি ঘটেছে।

এই সকল কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে গিয়েছে বলে অভিমত প্রকাশ করেন গোলাম আহসান।

তিনি হতাশার সুরে জানান, হস্তশিল্প বাংলাদেশের ঐতিহ্যের একটি অংশ হলেও এই খাতটি এখনো উপেক্ষিত।

অন্যদিকে, এই খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করছে চীন ও ভিয়েতনাম। বাংলাক্রাফটের তথ্য অনুযায়ী, হস্তশিল্প পণ্য রপ্তানী করে ভিয়েতনাম প্রতি বছর আয় করছে প্রায় ৯০ কোটি মার্কিন ডলার। অথচ বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রতি বছর আয় করছে ২ কোটি মার্কিন ডলার।  

এ খাতে কার্যত পরিবর্তন আনতে হলে কোন পদক্ষেপগুলো নেয়া আবশ্যক- এমন প্রশ্নের উত্তরে সমিতির শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা বলেন, হস্তশিল্প পণ্যের রপ্তানিকে ত্বরান্বিত তথা এর মাধ্যমে দেশের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে দক্ষ কারিগরের সংখ্যা বাড়াতে হবে। বর্তমানে দেশে ১ লক্ষ দক্ষ কারিগর রয়েছে, যেখানে লক্ষ্য অর্জনে কমপক্ষে ১০ লক্ষ দক্ষ কারিগর প্রয়োজন।

সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য হস্তশিল্প খাতেও আধুনিকীকরণ প্রয়োজন। আর এর জন্য একটি কেন্দ্র স্থাপন করা জরুরি, যেখানে নতুন নতুন নকশা তৈরি করা হবে এবং এর পাশাপাশি গবেষণামূলক কাজ চলতে থাকবে।

এ ব্যাপারে তারা অবশ্য হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেন, ১৯৭৯ সালে বাংলাক্রাফট প্রতিষ্ঠার পর আজ অবধি তারা এসকল সুবিধার কোনোটিই পাননি।

ইতোমধ্যে, বিশ্ব জুড়ে পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে চলমান ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম সাতমাসে হস্তশিল্প খাতে রপ্তানি আয় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চলমান অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ের মধ্যে হস্তশিল্প পণ্য রপ্তানি আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৯৬ লক্ষ ১০ হাজার মার্কিন ডলার, গত বছর যার পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৩২ লক্ষ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। হিসেব করলে দেখা যায় গত বছরের তুলনায় এ আয়ের পরিমাণ বেড়েছে ৪৮.২২ শতাংশ।

২০১৯-২০ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশের হস্তশিল্প পণ্য রপ্তানি আয় যথাক্রমে ২ কোটি ৫ লক্ষ ২০ হাজার মার্কিন ডলার এবং ১ কোটি ৯৯ লক্ষ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।

বাংলাক্রাফটের সভাপতি বলেন, বিশ্ব বাজারে বিশেষত ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে হস্তশিল্প পণ্যের চাহিদাও বেড়েছে। করোনা মহামারি সময়েও এই চাহিদা ছিল তুঙ্গে, কারণ উন্নত বিশ্বে দৈনন্দিন ব্যবহারের কাজে পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহৃত হচ্ছে।

তিনি খেদ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ব বাজারে চাহিদা বাড়লেও আমাদের দেশ থেকে সেই হারে হস্তশিল্প পণ্য রপ্তানি হচ্ছে না।

সম্ভাবনাময় এই খাত থেকে আশান্বিত আয়ের লক্ষ্যে গোলাম আহসান ২০১৫ সালে আনীত খসড়া নীতির বাস্তবায়নের দিকে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, এই নীতিসমূহ বাস্তবায়নে বেশ কিছু জটিলতা থাকলেও তা কার্যকর করা সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, খসড়া নীতিতে বেশকিছু পরিবর্তনের ব্যাপারে কথা চলছে, যেমন- একটি কারুপল্লী গড়ে তোলা, গবেষণামূলক কাজ করা, নতুন নতুন নকশা নিয়ে কাজ করা। এই বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে হস্তশিল্প বাণিজ্যে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।

সরকারি সহায়তা পেলে হোগলা পাতা ও বেতের মতো কাঁচামালের বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা যেতে পারে। এর ফলে হস্তশিল্প পণ্য তৈরির কাঁচামালের স্বল্পতা দূর হবে।

উৎপাদকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মান, ফ্রান্স, হল্যান্ড, বেলজিয়াম, স্পেন, জাপানসহ মোট ৫০টি দেশে বাংলাদেশ হস্তশিল্প পণ্য রপ্তানি করে থাকে।

রপ্তানিকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে হাতে বোনা কাপড় ও কার্পেট, ঝুড়ি, ঘর সাজানোর পণ্য, টেরাকোটা এবং মাটির পাত্র।

Share if you like

Filter By Topic

More News

কলকাতার একাদশে জায়গা হারালেন সাকিব আল হাসান

সিমাগো র‌্যাঙ্কিং: শীর্ষ পাঁচশতে নেই বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়

চট্টগ্রামের ১৬ থানায় `অক্সিজেন ব্যাংক’ চালু করেছে পুলিশ

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তালিকায় শীর্ষ পাঁচ দেশের চারটিই মধ্যপ্রাচ্যে: অ্যামনেস্টির রিপোার্ট

লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্রদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ

জরুরি সেবার জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানও খোলা

কমিউনিটি ক্লিনিকে যাচ্ছে ১৪০ কোটি টাকার ওষুধ

অন্য দেশ থেকেও টিকা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

এ বছর ফিতরা সর্বনিম্ন ৭০ টাকা, সর্বোচ্চ ২,৩১০ টাকা

অ্যাস্ট্রাজেনেকা’র ভ্যাকসিন: রক্ত জমাট বাঁধার লক্ষণ

-->